রেফারেন্স লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রেফারেন্স লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১১

মানুষের মনে এই ঈদেও শান্তি নেই

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে খালেদামানুষের মনে এই ঈদেও শান্তি নেই নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে আবারও সরকারকে উদ্দেশ করে বলেছেন, এখনো সময় আছে_নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা নিন। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করুন। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচন হলে তা দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই সরকারের উচিত, ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে অবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
সরকারের দুর্নীতি ও অপশাসনে দেশ 'স্থবির' হয়ে পড়েছে_অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ দুঃখ-কষ্ট-বেদনার মধ্য দিয়ে ঈদ উদ্যাপন করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো না। দেশের মানুষ খারাপ
থাকলে আমারও ভালো থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, মানুষ দুইবেলা পেট ভরে খেতে পারে না। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে। এ জন্য মানুষের মনে এই ঈদের দিনেও শান্তি নেই।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত মঙ্গলবার ঈদের দিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাজধানীর ইস্কাটনে লেডিস ক্লাবে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় বিএনপির চেয়ারপারসন এসব কথা বলেন। তিনি প্রথমে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও পরে দেশের বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও দলীয় নেতা-কর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে খালেদা জিয়া আরো বলেন, বেহাল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে ঈদে ঘরমুখী মানুষ এবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বাড়ি পেঁৗছতে দীর্ঘ সময় লেগেছে তাদের।
খালেদা জিয়া বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল করে দেওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে জনমত সৃষ্টির জন্য চলতি মাসের শেষ দিকে আবারও বিএনপির রোডমার্চ কর্মসূচি শুরু হবে। তবে সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। খালেদা জিয়া বলেন, 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব সময় বলেন, সর্বকালের ভালো আইনশৃঙ্খলা দেশে বিরাজমান। তিনি এ রকম কথা বলে আত্মতৃপ্তি পান। কিন্তু বাস্তবে হত্যা, গুপ্তহত্যা, খুন বাড়ছেই। জনগণের এখন কোনো নিরাপত্তা নেই।'
নারায়ণগঞ্জের সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী না দিয়ে সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করেছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, সেনাবাহিনী দেয়নি বলে শেষ মুহূর্তে আমাদের সমর্থিত প্রার্থী ভোট থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন। সেখানে একদলীয় নির্বাচন হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন নিরপেক্ষ হয় না। দেশবাসীকে ৭ নভেম্বরের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর হলো 'সিপাহি-জনতার বিপ্লবের দিন'। ঈদের পাশাপাশি এটাও আমাদের জাতীয় জীবনে একটির খুশির দিন। এই দিনেই সৈনিক ও জনগণ এক হয়ে দেশ রক্ষা করেছিল। যেভাবে একাত্তরে তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল।
নরসিংদীর পৌর মেয়র হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপি নেতা খায়রুল কবীর খোকনকে গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, মিথ্যা মামলায় খায়রুল কবীর খোকনকে আটক করে রেখেছে। খোকন সম্পূর্ণ নির্দোষ।
দুই ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের ছাড়া কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'মোটামুটি। এখন আমি জনগণকে নিয়ে আছি। জনগণ খারাপ থাকলে আমারও ভালো থাকার কথা নয়।' বিদেশে 'চিকিৎসাধীন' দুই ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'তাদের ওখানে একদিন আগেই ঈদ হয়ে গেছে। আমার কথা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে। আগের তুলনায় তাদের অবস্থা ভালো। তবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরো সময় লাগবে।
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন কূটনৈতিক কোরের ডিন ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত শাহের মোহাম্মদ, সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ নাসের আল বুশাইরি, ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন, ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার সঞ্জয় ভট্টাচার্যসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. আর এ গনি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার, আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, শমসের মবিন চৌধুরী, রাজিয়া ফয়েজ, সেলিমা রহমান, ইনাম আহমদ চৌধুরী, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল হালিম ও জহুরুল ইসলাম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।
বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শিল্পপতিদের মধ্যে ছিলেন এফবিসিসিআইর সভাপতি এ কে আজাদ, সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, বিজিএমইর সভাপতি শফিকুল ইসলাম মহিউদ্দিন, সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা চেম্বারের হায়দার আলী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রফিক-উল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা, অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক সদরুল আমিন, অধ্যাপক ইউসুফ হায়দার, সাংবাদিক শফিক রেহমান, মাহফুজ উল্লাহ, আবু সালেহ, মাহমুদ শফিক, আবদুল হাই শিকদার, শিল্পী শবনম মুস্তারী প্রমুখ।
অন্য রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইবরাহিম বীর প্রতীক, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ও ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহ মো. হাসান

বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১১

'জনগণ খারাপ থাকলে আমারও ভালো থাকার কথা নয়'


'জনগণ খারাপ থাকলে আমারও ভালো থাকার কথা নয়'
Tue, Nov 8th, 2011 6:42 pm BdST
Dial 2000 from your GP mobile for latest news  
ঢাকা, নভেম্বর ০৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সরকারের দুর্নীতি ও অপশাসনে দেশ 'স্থবির' হয়ে গেছে অভিযোগ করে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশের মানুষ দুঃখ-কষ্ট আর বেদনার মধ্যে দিয়ে এবারের ঈদ উদযাপন করছে। আর জনগণ খারাপ থাকলে তারও ভালো থাকার কথা নয়।

সোমবার ঈদুল আজহার দুপুরে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "সরকারকে বলব- এখনো সময় আছে- নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা নিন। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করুন।"

রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন লেডিস ক্লাবে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দলের নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিয়ম করেন বিরোধী দলীয় নেতা। এরপর তিনি শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে যান।

শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "দেশের মানুষ দুঃখ-কষ্ট আর বেদনার মধ্যে এবারের ঈদ উদযাপন করছেন। মানুষ দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারে না। তাদের কাছে ঈদের আনন্দ নেই। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে। এ জন্য মানুষের মনে এই ঈদের দিনেও শান্তি নাই।"

বিরোধী দলীয় নেতা অভিযোগ করেন, বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ঈদে ঘরমুখী মানুষ এবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বাড়ি পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগেছে তাদের।

দুই ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের ছাড়া কেমন আছেন জানতে চাইলে খালেদা জিয়া বলেন, ''মোটামুটি। এখন আমি জনগণকে নিয়ে আছি। জনগণ খারাপ থাকলে আমারও ভালো থাকার কথা নয়।"

বিদেশে 'চিকিৎসাধীন' দুই ছেলের সঙ্গে রোববার কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "তাদের ওখানে গতকালই ঈদ হয়ে গেছে। আমার কথা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে। আগের তুলনায় তাদের অবস্থা ভালো। তবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরও সময় লাগবে।"

খালেদা জিয়ার দুই ছেলের মধ্যে তারেক রহমান লন্ডন এবং আরাফাত রহমান কোকো মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ দিকে জামিনে মুক্তি পেয়ে তারেক এবং প্যারোলে মুক্তি নিয়ে কোকো চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। অবশ্য পরে অন্য মামলায় তাদের বিরুদ্ধে আবারো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

বিএনপি চেয়ারপার্সন জানান, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল করে দেওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে জনমত তৈরির জন্য চলতি মাসের শেষ দিকে আবারো বিএনপির রোড মার্চ কর্মসূচি শুরু হবে। তবে সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।

"রোড মার্চ কর্মসূচিগুলো বাকি রয়েছে। এসব শেষ হলে নতুন কর্মসূচি আপনারা জানতে পারবেন," যোগ করেন খালেদা।

ইতোমধ্যে ১০-১১ অক্টোবর সিলেট এবং ১৮-১৯ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ অভিমুখে রোড মার্চ করেছে বিএনপি।

বর্তমান সরকারের অধীনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন 'খারাপ' হচ্ছে উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব সময় বলেন, সর্বকালের ভালো আইনশৃঙ্খলা দেশে বিরাজমান। তিনি এ রকম কথা বলে আত্মতৃপ্তি পান। কিন্তু বাস্তবে হত্যা, গুপ্তহত্যা, খুন বাড়ছেই। জনগণের এখন কেনো নিরাপত্তা নেই।"

খালেদা জিয়া বলেন, "নারায়ণগঞ্জের সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী না দিয়ে সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। সেনাবাহিনী দেয়নি বলে শেষমুহূর্তে আমাদের সমর্থিত প্রার্থী ভোট থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন। সেখানে একদলীয় নির্বাচন হয়েছে। তাই নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন নিরপেক্ষ হয় না।"

গত ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার 'নেত্রীর' আদেশের কথা জানিয়ে ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

৭ নভেম্বরকে 'সিপাহী-জনতার বিপ্লবের দিন' অভিহিত করে খালেদা জিয়া বলেন, "ঈদের পাশাপাশি এটাও আমাদের জাতীয় জীবনে একটি খুশি দিন। এ দিনেই সৈনিক ও জনগণ এক হয়ে দেশ রক্ষা করেছিলো। যেভাবে একাত্তরে তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো।"

দেশবাসীকে ৭ নভেম্বরের শুভেচ্ছাও জানান খালেদা জিয়া।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার পর হত্যাকারীদের 'উৎখাত করার' লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে একটি অভ্যুত্থান হয়। ওই সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াকে আটক করা হয়।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সঙ্গে যুক্ত মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু তাহের ৭ নভেম্বর এক পাল্টা অভ্যুত্থানে জিয়াকে মুক্ত করেন। যাতে যুক্ত ছিলেন জাসদের নেতা-কর্মীরাও। অবশ্য পরে তাহেরকে সামরিক আদালতে 'বিচার' করে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

রাজনৈতিক দলগুলো ৭ নভেম্বরকে ভিন্ন ভিন্ন নামে ও চেতনায় পালন করে থাকে। বিএনপি 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস', আওয়ামী লীগ 'মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস' এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) 'সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান' দিবস হিসেবে দিনটি পালন করে।

গত মঙ্গলবার রাতে নরসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হোসেন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকনকে গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, "মিথ্যা মামলায় খায়রুল কবীর খোকনকে আটক করে রেখেছে। খোকন সম্পূর্ণ নির্দোষ।"

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত লেডিস ক্লাবে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া। প্রথমে তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত শাহের মোহাম্মদ, সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল¬াহ বিন নাসের আল বুসাইরি, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসনসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।

দলের নেতাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আর এ গণি, জমির উদ্দিন সরকার, এম কে আনোয়ার, আ স ম হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সহসভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী।

কূটনীতিকদের পর্ব শেষে বিশিষ্ট নাগরিক, দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে লেডিস ক্লাবে। তারা সারিবদ্ধভাবে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে শুভেচ্ছ বিনিময় করেন।

বিএনপির সহসভাপতি রাজিয়া ফয়েজ, সেলিমা রহমান, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইনাম আহমেদ চৌধুরী, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল হালিম ও জহুরুল ইসলামও চেয়ারপার্সনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে যান।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রফিক-উল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা, অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক সদরুল আমিন, অধ্যাপক ইউসুফ হায়দার, এফবিসিসিআই সভাপতি এ কে আজাদ, সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, বিজেএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক, সাংবাদিক শফিক রেহমান, মাহফুজ উল্লাহ, আবু সালেহ, মাহমুদ শফিক, আবদুল হাই শিকদার, শিল্পী শবনম মুস্তারীসহ সাবেক সচিব, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ,অর্থনীতিবিদ,চিকিৎসক নেতারাও বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এছাড়া কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রাজ্জাক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান খালেদার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/জেকে/১৫৫৫ ঘ.

মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০১১

সুশীল সমাজের তারা আজ কোথায়?: মির্জা ফখরুল


সুশীল সমাজের তারা আজ কোথায়?: মির্জা ফখরুল

Font size: Decrease font Enlarge font
image
 বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হরতালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মত একটি কালো আইন প্রয়োগ হচ্ছে, এর বিরুদ্ধে সুশীল সমাজের কোনো বক্তব্য নেই। তারা আজ কোথায়? গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্বদেশ পরিষদের আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এমএ মান্নানের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নয়াদিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, আমার দেশ’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি সেলিম ভুঁইয়া, তাঁতি দলের সহ-সভাপতি মমতাজ উদ্দিন প্রমুখ। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরেকটি স্বাধীনতা যুদ্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধানকে তছনছ করা হয়েছে। বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করা হয়েছে। দেশকে আশ্রিত রাজ্যে পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে। সব মিলিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব এতটাই অরক্ষিত যে, ’৭১ সালের মত আবারো দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আরেকটি স্বাধীনতা যুদ্ধ করতে হবে।
ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি নেতা বলেন, দেশের ৫৪টি নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ করে বাংলাদেশকে পরিবেশ বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভারতে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ মরুভূমি হয়ে যাবে।
এদিকে গতকাল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হরতালে এফডিসির গেটে জাসাসের মিছিলে অংশ নেয়া শিল্পী-সাহিত্যিকদের ওপর হামলাকারী পুলিশের শাস্তি ও গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন।
লিখিত বক্তৃতায় জাসাস সভাপতি এম এ মালেক বলেন, গত ১২ জুন হরতাল চলাকালে তেজগাঁও এফডিসি গেট থেকে শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, নাট্য ও চলচ্চিত্র শিল্পীদের নেতৃত্বে একটি মিছিল কাওরান বাজারের দিকে যাওয়ার সময় হোটেল সোনারগাঁও-এর সামনে বিনা উস্কানিতে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, জাসাস সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক মনির খান, ছড়াকার আবু সালেহ, সঙ্গীত শিল্পী হাসান চৌধুরী, বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন, অভিনেতা অমিত হাসান, গীতিকার মনিরুজ্জামান মনিরসহ অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও 

বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে আকাশে শকুনের আনাগোনা চলছে


বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে আকাশে শকুনের আনাগোনা চলছে


লেখক: ইত্তেফাক রিপোর্ট ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশকে অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে আকাশে শকুনের আনাগোনা চলছে। দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শকুনের আনাগোনা মোকাবেলায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জাসাস আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জাসাস সভাপতি এমএ মালেক।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, কবি আবদুল হাই সিকদার, জাসাস সাধারণ সম্পাদক মনির খান, সহ-সভাপতি বাবুল আহমেদ, ছড়াকার আবু সালেহ, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন প্রমুখ।

ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, বিরোধী দলের চিফ হুইপকে লাথি দেয়া হয়নি। বাংলাদেশের সংসদকে লাথি দেয়া হয়েছে। আজকের প্রধানমন্ত্রীর বাবা ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য ৪র্থ সংশোধীর মাধ্যমে বাকশাল করেছিলেন। কিন্তু এদেশের মানুষ ৪র্থ সংশোধনী মানে নি। সরকার বুঝতে পেরেছে দেশের যে দুর্দশা তাতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আর ক্ষমতায় যেতে পারবে না। ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে।

তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো তার একটিও বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

ড. মোশাররফ বলেন, দেশকে যারা ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় করতে চায় তারা জিয়া পরিবারকে ভয় পায়। সেজন্যই দেশ থেকে জিয়ার নাম মুছে ফেলতে চায়। জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আজকে শুরু হয়নি। জিয়াকে হত্যা এই ষড়যন্ত্রের অংশ।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম ৭২-৭৫ সালে আওয়ামী লীগের চরিত্র দেখেনি তারা এখন আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্র দেখতে পাচ্ছে।

চাঁদপুর জাসাসের সভায় হট্টোগোল কমিটি বিলুপ্ত


চাঁদপুর জাসাসের সভায় হট্টোগোল কমিটি বিলুপ্ত

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর হ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) চাঁদপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা গত বুধবার বিকেলে চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগস্থ পার্টি হাউজে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর জেলা জাসাসের সভাপতি গোলাম মো¯-ফা রতন এবং সাধারণ সম্পাদক হারুন আল-রশীদের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জাসাস জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক উপ-কমিটির আহ্বায়ক বিশিষ্ট ছড়াকার ও শিশু সাহিত্যিক মুক্তিযোদ্ধা পীরজাদা আবু সালেহ। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় জাসাসের যে সকল কমিটি দুর্বল রয়েছে তা ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদেশে একটি টিম গঠন করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় নিক্রিয় কমিটিগুলোর কার্যক্রম কোন অবস্থায় আছে তা প্রথমে খতিয়ে দেখবো। কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লার কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ চাঁদপুরে সাংগঠনিক সভায় আমরা মিলিত হয়েছি। আমরা চাই বিরোধ বিভেদ ভুলে গিয়ে কিভাবে প্রত্যেকটি জেলায় জাসাসকে শক্তিশালী করা যায়। আপনাদের মনোকষ্ট রেখে আমরা কোনো কমিটি গঠন করতে চাই না। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক উপ-কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্র্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর শিকদার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক উপ-কমিটির সমন্বয়কারী শেখ মোঃ মহীউদ্দিন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-কমিটি ও জাসাস জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডঃ সামছুল হুদা, জাসাস জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

Daily Amardesh -ঢাকা, সোমবার ৩০ মে ২০১১, ১৬ জৈষ্ঠ্য ১৪১৭, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৩২ হিজরী

Daily Amardesh -ঢাকা, সোমবার ৩০ মে ২০১১, ১৬ জৈষ্ঠ্য ১৪১৭, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৩২ হিজরী

সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশকে সংবিধানশূন্য করেছে

স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে জনগণকে দমিয়ে রেখে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার হীন উদ্দেশ্যেই সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশকে সংবিধানশূন্য করেছে। বিরোধী দল ও মতের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর ওপর গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে সরকার নিপীড়কের ভূমিকায় নামিয়েছে। দেশে সংবিধান নেই। সে কারণেই মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারও নেই। মানুষের জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই। আয়বৈষম্য বেড়ে চলেছে। বহু প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র আজ বিপন্নপ্রায়। শ্বাসরুদ্ধকর এ পরিস্থিতি থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে উদ্ধার করতে প্রহসনের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ফ্যাসিবাদী ও চরম স্বৈরাচারী এ সরকারের পতনে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘লিবারটি বাংলাদেশ’ আয়োজিত সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন।
‘বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ শীর্ষক এ সেমিনারে বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রদূত রাশেদ আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামালউদ্দিন সবুজ, সাবেক সভাপতি খন্দকার মনিরুল আলম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস শহীদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি কাজী রওনাক হোসেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বাকের হোসাইন প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান দেশে সাংবিধানিক শূন্যতার জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করে বলেন, একটি সিনেমা হলের মালিকানাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে আদালত সংবিধানের গোটা পঞ্চম সংশোধনীই বাতিল করে দিয়েছেন। আপিল বিভাগের এ রায়ের পর সরকার অনেকটা তড়িঘড়ি করে সংবিধান ছাপায়। প্রথমে সরকারের পক্ষ থেকে ছাপানো এ সংবিধান সম্পর্কে বলা হলো, এটা হচ্ছে খসড়া সংবিধান। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বললেন, খসড়া সংবিধান বলতে কিছু নেই। পরে আইনমন্ত্রী বললেন, রায়ের আলোকে মুদ্রিত এ সংবিধান অনুযায়ীই দেশ চলছে। এ ঘটনার পর পঞ্চম সংশোধনী বিষয়ে আপিল বিভাগের দেয়া রায় রিভিউ করার জন্য আবার আবেদন করে সরকার। এ রিভিউরও রায় হয়েছে। এছাড়াও পরবর্তী সময়ে সপ্তম সংশোধনী ও ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগ রায় দিয়েছে। অথচ এ রায়গুলোর আলোকেও সংবিধান ছাপানোর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বরং বিশেষ কমিটি নামে একটি কমিটি করে সংবিধান সংশোধনের নামে জাতিকে গভীর সঙ্কটের দিকে ঠেলে দেয়ার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলেছে। দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান বলেন, আইন অনুযায়ী একটি চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র নাগরিকদের মানবাধিকার নিশ্চিত করে থাকে। নাগরিকরা রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকে আর রাষ্ট্র তাদের জীবনের নিরাপত্তা, মৌলিক ও মানবাধিকার নিশ্চিত করে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশের রাষ্ট্রযন্ত্র নাগরিকের সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার রাষ্ট্রের সব যন্ত্রকে বিকল করে ফেলেছে। চুক্তি ভঙ্গ করে রাষ্ট্র এখন একটি নিপীড়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এ অবস্থায় মানবাধিকার থাকতে পারে না। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা দেশকে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো বাংলাদেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশে অত্যাচারী শাসকশ্রেণীর আবির্ভাব ঘটেছে। এ অবস্থায় মানুষ বাঁচার তাগিদেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষপাতমূলক আচরণের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের মানুষ ইনসাফ পাচ্ছে না। বিচার বিভাগের হাতে মানুষ বেইনসাফের শিকার। ক্ষমতাসীনরা বিচার বিভাগকে দলীয় অঙ্গসংগঠনে পরিণত করেছে। বিচারের নামে দেশে মূলত তামাশা চলছে। একথা বলার কারণেই আমাকে সাজা দেয়া হয়েছে। অথচ এখন একথা শুধু দেশের মানুষই বলছে না, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার প্রতিবেদন, টিআইবি প্রতিবেদন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসছে। আদালত এখন তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সাহস দেখাতে পারছে না। কেননা আদালতের নৈতিক শক্তি নেই। আদালতের এ অবস্থা থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিত্রও ভিন্ন নয়। এটা নিয়ে কথা বলার কোনো প্রয়োজনও নেই। কেননা এই ট্রাইব্যুনাল যারা গঠন করেছেন, তাদের নির্দেশ মতোই সবকিছু হবে। এটা দেশের মানুষ মোটামুটি ধরেই নিয়েছে। ইতোমধ্যেই এ আদালত পক্ষপাতমূলক আদেশ দেয়া শুরু করেছে। গ্রেফতারকৃতদের একজনকে জামিন দিয়েছে। অন্যদের দেয়া হলো না কেন? এ প্রশ্ন সবখানে উঠছে। অথচ আদালত এ বিষয়টি আমলেই নিচ্ছেন না।
কামালউদ্দিন সবুজ বলেন, মানবাধিকারের সঙ্গে গণতন্ত্রের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। একটি ছাড়া অপরটি অচল। এ দুটির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় চেতনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বর্তমানে এদেশে শাসকপক্ষের লোক আর শাসিতদের কাছে গণতন্ত্রের রূপ ভিন্নরকম। দেশে শাসরুদ্ধকর একটা অবস্থা বিরাজ করছে। স্বাধীনতার ৪০ বছরেও জনগণ মানবাধিকার ভোগ করতে পারেনি। দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ৩০ ভাগও পত্রিকায় প্রকাশ পায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাস্তব চিত্র আরও ভয়ঙ্কর। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে দেশে-বিদেশে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্যই এ বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করছেন। সবাই চায় যু্দ্ধাপরাধের বিচার হোক। তবে তা হতে হবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির বিচার করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ব্যাপারে সরকারকে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এস এম রাশেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের মা খ্যাত আমেরিকায় যেখানে বাইবেল নিয়ে শপথ নেয়া হয়, সেখানে এদেশে সেক্যুলারিজমের ভূত মাথায় চাপল কেন? এখানে তো একই সময়ে পাশাপাশি তারাবির নামাজ ও পূজা পালন করা হয়। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে মার্কিন বিশেষজ্ঞ স্টিফেন র্যাপের পরামর্শগুলো যাচাই করে তা পূরণ করুন। তাহলে ট্রাইব্যুনাল থেকে সফলতা পাওয়া যাবে। অন্যথায় দেশ বিভক্ত হলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অতীতের পেছনে না ছুটে দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি খন্দকার মনিরুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের শুরু থেকেই এটা আন্তর্জাতিক মানের কি-না তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ বিতর্ক ইচ্ছা করেই তৈরি করা হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যে কোনো অপরাধের ন্যায়বিচার হতে হবে। কিন্তু এই ট্রাইব্যুনালে ন্যায়বিচার হবে কি-না তা ভাবতে হবে। দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, যে দেশে চৌধুরী আলমের মতো ওয়ার্ড কমিশনার নিখোঁজ হয়, জনপ্রিয় পত্রিকা আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মাসের পর মাস আটক, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন, অসংখ্য মামলায় সারাদেশ ঘুরে বেড়াতে হয় সেখানে মানবাধিকার কী অবস্থায় আছে তা সহজেই বোঝা যায়। তিনি বলেন, শুধু চৌধুরী আলম বা মাহমুদুর রহমান নন, তাদের মতো শত শত মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে। নির্যাতন করাই যেন সরকারের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিকদের দমনের কাজে ব্যবহার করে এলিট ফোর্স র্যাবের ভাবমর্যাদা নষ্ট করা হচ্ছে। মানবাধিকার নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে, তার প্রতিবাদ করতে হবে।
ডিইউজে সভাপতি আবদুস শহীদ বলেন, সমাজের মানবাধিকার পরিস্থিতির কথা বলতে এবং গণতন্ত্রের জন্য অবারিত তথ্যপ্রবাহ থাকা দরকার। কিন্তু বর্তমানে দেশে মিডিয়ায় ত্রাস সৃষ্টি করা হচ্ছে। ভিন্নমতের সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করে পথে বসানো বা হয়রানিমূলক বদলি করা হচ্ছে। দিনদিন সাংবাদিক নির্যাতন যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমরা শঙ্কিত। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে তিনি বলেন, এ ট্রাইব্যুনাল নিজেই পক্ষপাতদুষ্ট। তারা নিজেরাই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে।

Daily Dinkal | 23 July, 2011, Saturday